ফেইস শেইপ অনুযায়ী পারফেক্ট চশমার ফ্রেম কীভাবে চুজ করবেন?

 

এক সময় চশমা পরলে আশেপাশের মানুষের কাছে চাশমিশ, চার-চোখা ইত্যাদি টিপ্পনী শুনতে হত। কিন্ত বর্তমান ফ্যাশনের যুগে শুধু দৃষ্টিশক্তির জন্যেই সবাই চশমা ব্যবহার করে না, বরং চশমা এখন ফ্যাশন আইটেমে পরিণত হয়েছে।

চশমা আপনার সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যক্তিত্বকেও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এজন্যে চেহারার সাথে মানান সই ফ্রেম এর ব্যবহার অপরিহার্য। আধুনিকতার এই যুগে ফেইস শেইপ অনুযায়ী পারফেক্ট চশমার ফ্রেম চয়েজ করা এখন একটা চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

চশমার ফ্রেম এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে যেন তা আপনার চেহারার সৌন্দর্যকে আরো ফুটিয়ে তোলে। ফেইস শেইপ অনুযায়ী পারফেক্ট চশমার ফ্রেম কীভাবে চুজ করবেন তা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন। 

 



চশমার ফ্রেম নির্বাচন করার উপায়

বেশিরভাগ সময় আমরা চশমা কেনার সময় শুধু কালার অথবা ট্রেন্ডি ডিজাইন দেখে ফ্রেম বাছাই করে ফেলি। ফ্রেমের সাইজ কেমন, চেহারার সাথে মানানসই কিনা তা নিয়ে ভাবি না।

দিন শেষে যখন দেখি চশমা আর চেহারার সাথে ম্যাচ করছে না, তখন আবার আমাদেরই মন খারাপ হয়। চশমা হবে এমন, যেন তা চেহারার লুকটাই চেঞ্জ করে দেয়, আপনার ব্যক্তিত্বকে বাড়িয়ে তুলবে বহু গুণে।

আজকাল সেলিব্রেটিদের হরহামেশাই দেখা যায় ইন্টেলেকচুয়াল লুক আনতে বিভিন্ন ধরণের স্টাইলিশ চশমা ব্যবহার করতে।


চেহারার আকার যেমনই হোক,বৃত্তাকার, ডিম্বাকার বা বর্গাকার, তার সাথে মিলিয়ে চশমার ফ্রেম পেয়ে যাবেন অনায়াসে।

কেমন আকৃতির চেহারার সাথে কেমন ফ্রেম চুজ করবেন তা কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে। নিচে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।    

 



ফেইস শেইপ অনুযায়ী পারফেক্ট চশমার ফ্রেম নির্বাচন

মানুষের মুখের আকৃতি সাধারণত ছয় ধরণের হয়:

১। বর্গাকার চেহারা
২। হার্ট বা হৃদয় আকৃতির চেহারা
৩। রাউন্ড বা গোলাকার চেহারা
৪। ডায়মন্ড-আকৃতির চেহারা
৫। ওভাল বা ডিম্বাকার চেহারা
৬। নাশপাতি আকৃতির চেহারা


এখন, এই ছয় ধরণের আকৃতির সাথে চশমার ফ্রেমের ধরণ কেমন হলে মানানসই হবে তা এখন আমরা জানবো।


১। বর্গাকার চেহারা: বর্গাকার আকৃতির চেহারার মানুষদের কপাল ও চোয়াল সাধারণত একটু বেশি চওড়া হয়ে থাকে। এ ধরণের চেহারায় কৌণিক আকৃতির পরিবর্তে মোটা ও গোল ফ্রেমের চশমা ভালো মানায়।

আবার, রিমলেস অথবা সেমি রিমলেস ফ্রেমও বর্গাকার চেহারার সাথে সুন্দরভাবে মানিয়ে যায়। 


২। হার্ট বা হৃদয় আকৃতির চেহারা: এই জাতীয় চেহারা সাধারণত হার্টের শেইপের মত উপরের দিকে চওড়া এবং নিচের দিকে সরু হয়ে থাকে। অর্থাৎ কপালের অংশ চওড়া, উঁচু গালযুক্ত এবং নিচের দিকে থুতনির অংশটুকু একটু সরু আকৃতির হয়।

এ ধরণের চেহারায় ওভাল শেইপের ফ্রেম ভালো মানায়। তবে বড় সাইজের ফ্রেম এড়িয়ে চলাই ভালো। হালকা বর্ণের পাতলা ফ্রেমের চশমা হার্ট শেইপের চেহারায় দারুণ মানায়। 


৩। রাউন্ড বা গোলাকার চেহারা: গোলাকার চেহারার জন্যে রাউন্ড ও ওভাল শেইপের চশমা সব সময় এড়িয়ে চলতে হয় কারণ এতে চেহারা আরো বেশি গোলা দেখায়।

এছাড়া যে কোনো আকারের ফ্রেমই সহজে মানিয়ে যায়। প্রশস্ত ও চার কোণা শেইপের চশমার ফ্রেম এ চেহারাগুলোতে খুব সুন্দর দেখায়।

এছাড়া কৌণিক ফ্রেমযুক্ত ফুল-রিম অথবা সেমি রিমের চশমাও গোলাকার চেহারাতে একটা আলাদা মাত্রা যোগ করে।                                                                                          

                                                       

৪। ডায়মন্ড আকৃতির চেহারা: ডায়মন্ড আকৃতির চেহারাতে গাল বড় এবং চোয়ালের দিকটা বেশ সরু হয়। এদের থুতনি ছোট আকারের হয়। এ ধরণের চেহারা সাধারণত খুব একটা দেখা যায় না।

বিভিন্ন ধরণের ফ্রেম এই চেহারাতে মানিয়ে যায়। রিমলেস বা ডিম্বাকৃতি ফ্রেমের চশমা পরলে চেহারার সরু ভাবটা একটু কমে যায়। আর এ জন্যেই দেখতেও খুব সুন্দর লাগে।  


৫। ওভাল বা ডিম্বাকার চেহারা: ওভাল বা ডিম্বাকৃতির চেহারার সাথে যে কোনো ফেমের চশমা সহজেই মানিয়ে যায়। কারণ এই চেহারা গুলোর আকৃতি সম্পূর্ণ গোলাকার হয় না আবার বেশি চওড়াও হয় না।

এর কপাল ও থুতনির অংশ গোলাকার হয় এবং চিক-বোনের দিকে চওড়া থাকে। বেশিরভাগ মানুষের মুখের আকৃতি ওভাল শেপের হওয়ার কারণে এটিকে
সার্বজনীন আকৃতিও বলা হয়।

বর্গাকার কিংবা আয়তাকার আকৃতির ফ্রেম এই চেহারায় খুব ভাল দেখায়। আবার ইচ্ছে হলে একটু বড় সাইজের চশমাও পরতে পারেন। 


৬। নাশপাতি আকৃতির চেহারা: নাশপাতি আকৃতির চেহারায় গাল প্রশস্ত হয় এবং কপাল ও চিবুক  সংকীর্ণ থাকে। চ্যাপ্টা ও ভারি ফ্রেমের চশমা এ চেহারায় বেশি মানায়।

তবে চারকোণা এবং গোলাকৃতি ফ্রেমগুলো চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট করে তাই এগুলো এড়িয়ে যাওয়ায় উত্তম। 

 



কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

এছাড়া চশমার ফ্রেম বাছাই করার সময় আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। 

  • চশমার ফ্রেম যেন আপনার বয়সকে বাড়িয়ে না তোলে। অর্থাৎ আপনি কেনার সময় হয়তো সুন্দর দেখে কিনলেন, চশমা পরার পর দেখতে বয়স্ক মনে হচ্ছে। চশমার ফ্রেম এমনভাবে বাছাই করতে হবে যেন তা আপনার বয়সকে কমিয়ে দেয়। 

  • খেয়াল রাখতে হবে, চশমার ফ্রেম বেশি প্রশস্ত বা বেশি রঙচঙা না হয়, যেটা আপনার মুখের সৌন্দর্যকেই ঢেকে দেয়।

  • আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশে ফ্রেমের শেপের সাথে সাথে এর রঙ ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বহন করে। আপনার গায়ের রঙ কেমন এটা মাথায় রাখতে হবে ফ্রেম বাছাইয়ের সময়। গায়ের রঙ উজ্জ্বল হলে গোল্ডেন অথবা ব্রাউন কালারের ফ্রেম বেশি মানানসই।

    আর ডার্ক হলে কালো অথবা যে কোনো হালকা রঙ ট্রাই করতে পারেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত চশমা হলো কালো রঙের চশমা। অনেকে চেহারার মাঝে ইনোসেন্ট ও স্নিগ্ধ ভাব আনতে পিংক ও পার্পল কালারের ফ্রেম ব্যবহার করেন।

    তবে তরুণদের মাঝে রঙিন চশমা বিশেষ করে  ব্লু ও ব্রাউন কালারের ফ্রেমের গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। 


  • এছাড়া চেহারার সাইজ ছোট হলে সরু এবং ছোট ফ্রেমের চশমা হলে দেখতে যেমন ভালো লাগবে তেমনি চেহারা লম্বা, বড় অথবা চওড়া হলে মোটা ফ্রেমের ওভার-সাইজের সাইজের চশমাতে বেশি ভালো লাগবে।

    শীতের দিনে সোয়েটার এবং জ্যাকেটের সাথে ছেলে মেয়ে উভয়ে ওভার সাইজের চশমাগুলো পরতে পারে।

এই ছিলো আজকের আয়োজন। উপরের আলোচনাটি মন দিয়ে পড়লে, নিশ্চয় এতক্ষণে বুঝে গেছেন, আপনার ফেইসের শেইপের সাথে কোন ধরণের ফ্রেম মানানসই হবে।

এছাড়া কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন। এরকম আরো সুন্দর সুন্দর পোস্ট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। 

You have successfully subscribed!
This email has been registered
ico-collapse
Recently Viewed
ic-cross-line-top
Top
ic-expand
ic-cross-line-top